প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয়, দেশের সম্পদ। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
পেশাদারিত্বে কোনো আপস না করতে বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশ এবং দেশের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থির সময় এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্ম, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।












